Wellcome to National Portal
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২nd নভেম্বর ২০২২

প্রফেসর অসীম কুমার সাহা

শিক্ষা মন্ত্রণালয়,গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর আওতাধীন সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ফরিদপুর প্রফেসর অসীম কুমার সাহা ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী দক্ষিণবঙ্গের বিদ্যাপীঠ সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ফরিদপুর এ অঞ্চলের মানুষের শিক্ষার বাতিঘর। বৃহত্তর ফরিদপুর সহ আশে পাশের প্রায় ত্রিশ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রতিনিয়ত শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে এ প্রতিষ্ঠানটি। শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর অসীম কুমার সাহার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি তার সামগ্রীক কার্যক্রম নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে। ফরিদপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম চাদপুরে অনীল কুমার সাহা এবং কানন বালা সাহার ঘর আলো করে ১৯৬৫ সালের মার্চের ১৪ তারিখ জন্মগ্রহন করেন। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় সন্তান। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী । ১৯৮০ সালে শিবরামপুর আর.ডি. একাডেমী থেকে ssc বিজ্ঞান বিভাগে কৃতিত্বের সাথে ১ম বিভাগে উত্তীর্ণ হবার পর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ফরিদপুরে এইচ এস সি তে ভর্তি হন। ১৯৮৩ সালে এখান থেকে সফলতার সাথে বিজ্ঞান বিভাগ হতে ১ম বিভাগে উত্তীর্ণ হন এরপর উচ্চ শিক্ষার জন্য পাড়ি জমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগ হতে বিএসসি অনার্সে ১৯৮৬ সালে ১ম শ্রেণিতে ২য় এবং একই বিভাগ হতে এমএসসিতে ১৯৮৭ সালে ১ম শ্রেণিতে ১ম স্থান করে কৃতিত্বের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পাঠ শেষ করেন। ১৯৯৩ সালের ২০ অক্টোবর ১৪ তম বিসিএস এ শিক্ষা ক্যাডারে যোগদানের মাধ্যমে তিনি তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৯২ সালে তিনি বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন। স্ত্রী রমা সাহা গনিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং বর্তমানে সরকারি সারদা সুন্দরি মহিলা কলেজে কর্মরত। তিনি ১৬শ বিসিএসের একজন কর্মকর্তা। ব্যক্তি জীবনে তিনি আবির ও অনিক এই  দুই সন্তানের জনক। প্রফেসর অসীম কুমার সাহা সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থী এবং প্রভাষক থেকে প্রফেসর পর্যন্ত সকল পদমর্যাদায় অত্র প্রতিষ্ঠানে সেবা দিয়েছেন। তাঁর অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তাঁর রচিত উচ্চতর গণিতের ১ম ও ২য় পত্র বই দুটি এনসিটিবি কতৃক অনুমোদীত এবং অক্ষরপত্র কতৃক প্রকাশিত হয়েছে যা সারা বাংলাদেশের বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের কাছে সমানভাবে গ্রহনযোগ্য। এছাড়াও অনার্স ১ম ও ২য় বর্ষের জন্য ‘ক্যালকুলাস’, অনার্স ৪র্থ বর্ষের জন্য ‘থিওরি অফ নাম্বারস’ ও ‘হাইড্রোডাইনামিক্স’ বই শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করছে।

কলেজের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে অত্র কলেজটি দেশ ও সমাজের কাছে একটি অনুকরণীয় মডেল হিসাবে উপস্থাপন করার প্রচেষ্টায় আমাদের মাননীয় অধ্যক্ষ প্রফেসর অসীম কুমার সাহা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এজন্য তিনি বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছেন যেগুলো নিন্মে উল্লেখ করা হলোঃ-

 

ডিজিটাইজেশনঃ শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ব্যাংকিং (আর্থিক পেমেন্ট) সংক্রান্ত জটিলতার অবসান, কাউন্টারে লাইন, ব্যাংকে লাইন, বিভাগে দৌড়াদৌড়ি, আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করণ।

  • শিক্ষার্থীদের ডাটাবেইজ প্রণয়ন –আগে শিক্ষার্থীদের তথ্য খুজে পাওয়া যেতোনা কিন্তু বর্তমানে ইপেমেন্ট সফটওয়্যারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের তথ্য এক ক্লিকেই খুজে পাওয়া যাচ্ছে।
  • শিক্ষার্থীরা তার নিজস্ব স্মার্ট মুঠোফোনের মাধ্যমে সকল ধরনের ফি এবং ফরম ফিলাপ করতে পারছে।
  • শিক্ষার্থীদের জন্য প্লে স্টোরে রয়েছে মোবাইল এপস যার মাধ্যমে তাদের যাবতীয় কাজ সম্পাদন করতে পারবে। (এপসের কাজ চলমান)
  • রাজেন্দ্র কলেজের বর্তমান ওয়েব সাইট এ২আই এর পাইলট প্রজেক্ট। সারা বাংলাদেশের সকল সরকারি কলেজে রাজেন্দ্র কলেজের ওয়েব সাইটকে পাইলট ধরে এ২আই কাজ করছে।
  • শিক্ষার্থীদের ফলাফল ওয়েব সাইটের মাধ্যমে প্রকাশ এবং এডমিট কার্ড ও নম্বরপত্র প্রদান।
  • সেইভ দি পেপার স্লোগানকে সামনে রেখে ই-নথির কার্যক্রম নিয়ে একটি টিম কাজ করে যাচ্ছে।
  • ই-নোটিশ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিভাগ, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্য নোটিশ পাঠানো এবং পুশ নোটিফিকেশনের মাধ্যমে সকল শিক্ষার্থীর মুঠোফোনে বার্তা প্রেরণ।
  • বায়োমেট্রিক এটেন্ডেসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাজিরা নিশ্চিতকরণ এবং অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের কাছে বার্তা প্রেরণ।
  • কলেজের দুটি ক্যাম্পাসকে একটি নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং ১২০ টি আই পি ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং করার জন্য কাজ চলমান রয়েছে।

একাডেমিক কার্যক্রমঃ

  • কলেজের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য কলেজ কার্যক্রমের শুরুতে এসেম্বলি, জাতীয় সংগীত এবং শপথের মধ্য দিয়ে পাঠদান শুরু।
  • এইচ এস সি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ ও তাদের লেখা পড়ার মানোন্নয়নে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যবেক্ষণ ও পরিবীক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে যারা নিবিড়ভাবে শিক্ষার্থীদের মনিটরিং করছে।
  • এইচ এস সি শিক্ষার্থীদের মনিটরিং এর জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল, অনুপস্থিতির জন্য তার অভিভাবককে ডেকে মুচলেকা গ্রহন এবং ভালো ফলাফলের অঙ্গীকার গ্রহন।
  • অনার্সের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য কোর্সভিত্তিক ক্লাস টেস্ট গ্রহন। এবং বিভিন্ন মোটিভেশন কার্যক্রম গ্রহন।
  • অনার্সের শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভাগভিত্তিক সেমিনারের আয়োজন।

জাতীয় দিবস পালনঃ

  • বিজয় দিবস পালনঃ ১৬ দিনব্যাপী কলেজের প্রশাসনিক চত্বরের সামনে প্যান্ডেল টানিয়ে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তথ্যচিত্র, প্রামাণ্যচিত্র এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শন সেই কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী কতৃক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা এবং মঞ্চনাটক প্রদর্শন। প্রতি বিভাগ থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইউনিফর্ম ব্যান্যারের মাধ্যমে বিজয় র‍্যালী।
  • ভাষা দিবস উদযাপনঃ যথাযথ মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন এবং কলেজের নিজস্ব শহীদ মিনারে প্রতি বিভাগ থেকে ফুলের মাল্য প্রদান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইউনিফর্ম ব্যান্যারের মাধ্যম প্রভাত ফেরীর আয়োজন।
  • একই ভাবে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ।
  • জাতীয় শোকদিবস উদযাপনঃ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে ১৯টি বিভাগ, ডিগ্রী এবং একাদশ শ্রেণিতে কলেজের দক্ষ শিক্ষক দ্বারা আলোচনা অনুষ্ঠান এবং কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান কুইজ প্রতিযোগীতার আয়োজন এবং ১১৫ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ।

কো-কারিকুলার এক্টিভিটিসঃ

  • আন্তবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজনঃ প্রথমে আন্তবর্ষ ফুটবল প্রতিযোগিতার মাধ্যমে টিম গঠন এবং পরবর্তিতে আন্তবিভাগ ফুটবল খেলার আয়োজনের মাধ্যমে কলেজের জমজমাট অবস্থায় ফিরে আসা।
  • আন্তবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন।
  • কলেজের নিজস্ব শিল্পী বাছাই এবং বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন বিশেষকরে কলেজের বসন্ত বরন উৎসব সারা বাংলাদেশেই আলোচিত।

বাবু অম্বিকাচরণ মজুমদারের জন্মদিবসঃ বাবু অম্বিকাচরন মজুমদারের জন্মদিবসে ছাত্র-শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান, কেক কাটা এবং মিষ্টি বিতরণ।

কৃতি শিক্ষার্থী সম্বর্ধনাঃ এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট এবং মেডিকেলে রাজেন্দ্র কলেজের যে সকল শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়েছে তাদের সম্বর্ধনার (ফুলেল শুভেচ্ছা,ক্রেস্ট প্রদান) মাধ্যমে বর্তমান শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পাঠ ও মূল্যায়নঃ একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করার জন্য প্রথমে ৭৫০ কপি বই বিতরণ করে তাদের পাঠ করানো হয় এবং পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করে এককালীন অর্থবৃত্তি, মহামূল্যবান বই, ক্রেস্ট, সনদ প্রথম ১০জনকে বিতরণ করা হয়। উল্লেখ্য এ অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সম্মানীত ডিজি মহোদয় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ বছরও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করা হয়েছে এবং খুব দ্রুতই মূল্যায়ন কাজ শুরু হবে।

কলেজ সবুজায়নঃ গ্রীন ক্যাম্পাস এই স্লোগানকে সামনে রেখে বর্তমান অধ্যক্ষ কলেজের দুই ক্যাম্পাসে ফলজ,ভেষজ এর ১২০০ গাছ লাগিয়েছে এবং চারপাশ দিয়ে কাটাতারের বেড়া দিয়ে সেটিকে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন। অধ্যক্ষ মহোদয় এগুলো পরিচর্যা করার জন্য নিয়মিত তদারকি করছেন।

উন্নয়ন কার্যক্রমঃ কলেজের শতবর্ষী ভবনের ১০ তলার ছাদ ঢালাই হবে। কলেজের মসজিদের ওযুখানা নির্মান হয়েছে। নবনির্মিত ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস চালু হয়েছে। ছাত্রাবাসে আধুনিক মানের একটি পাঠাগার নির্মিত হয়েছে। কলেজের প্রধান গেইটের পাশে শিক্ষক ক্লাবের সামনে সুন্দর ফুলের বাগান তৈরি করে দৃষ্টিনন্দন করা হয়েছে। একাডেমিক ভবনের সামনে দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান তৈরি করা হয়েছে। একাডেমিক ভবনের ১০৪ ও ১০৫ নম্বর কক্ষকে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার এবং উচ্চমাধ্যমিকের পাঠাগার হিসেবে সাজানো হচ্ছে। এবং কলেজের প্রশাসনিক চত্বরে দুইপাশে টেরাকোটা সহ ৩০ ফিট উচু বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মানের কাজ এগিয়ে চলছে। কলেজের একটি অডিটোরিয়ামের জন্য মাউশি ডিজি মহোদয়ের মাধ্যমে উচ্চ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।

 একজন প্রফেসর অসীম সাহা যেমন দক্ষ একাডেমিশিয়ান তেমনি কলেজকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে এ অঞ্চলের শিক্ষা দিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত করছে।


Share with :

Facebook Facebook